আনিছুর রহমান মানিক, স্টাফ রিপোর্টার>>
নীলফামারীর ডোমারে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারে’র বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে শিক্ষকের যৌন হয়রানী ধামাচাপা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পর্যন্ত গড়ালেও দির্ঘ দিনে কারো বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা না নেয়ায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে এই ঘটনার প্রভাবে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
সরেজমিনে যানাযায়, উপজেলার উত্তর গোমনাতী ইউনিয়নের সরকার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম একই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজাানি হলে, এলাকাবাসী অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে ননজুডিশিয়াল ষ্টাম্পে মুচলেকা নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে না আসার শর্ত জুড়ে দেয়। পরবর্তিতে গোমনাতী ক্লাসমেট এরিয়ার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) রুহুল আমিন ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে শিক্ষক মনজুরুল ইসলামকে অনুপস্থিত পায়, এবং যৌন হয়রানীর কারণে অনুপস্থিত বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তিতে এটিও রুহুল আমিন অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের যৌন হয়রানীর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে চাকুরীর ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩ ধাপে মোট ৫০হাজার টাকা ঘুষ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের কথোপকথনের একটি ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডেও রুহুল আমিনকে ঘুষ দেয়ার বর্ণনা পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অবিভাবক প্রতিনিধিকে বলেন, যৌন হয়রানীর মতো স্পর্শকার বিষয়ে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়ার পরও একজন সরকারী কর্মকতা কি ভাবে চুপ থাকে এটা বোধগম্য নয়। এতে আমাদের সন্তানেরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। আমরা ওই শিক্ষকের অপসারণ ও শাস্তি দাবী করছি। পরবর্তিতে সামগ্রীক ঘটনার বিষয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নজরে আনলেও তিনিও বিষয়টি নিয়ে তেমন সাড়া দিচ্ছেন না এমন অভিযোগও উঠেছে। এবিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিনকে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ঘুষ গ্রহনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, আমি যদি ঘুষ গ্রহন করে থাকি তবে তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হোক।
ওই শিক্ষক নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা চুপ করে বসে নাই। অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে প্রথম দফায় দেয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোজনক না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় নোটিশ করা হয়েছে। এর জবাব পেলেই প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দ্বায়িত্বে থাকা এটিও আব্দুল মান্নানকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি এক দিনের জন্য দ্বায়িত্বে আছি তাই এবিষয়ে মন্তব্য করতে পারছিনা। আপনারা টিও সাহেবের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারবে। এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মনজুরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।