• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ডোমারে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স ডোমারে ফুটবল মিনিবার টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ডোমারে শারদীয় দূর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি মূলক সভা ডোমারে কৃষকের ধানকাটাকে কেন্দ্র করে গৃহবধুকে মারপিটের অভিযোগ একসময় ডাক অফিসে আসত প্রেমপত্র, আর এখন আসে শুধু তালাকপত্র! দেবহাটায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এ অঞ্চলে প্রাকৃতির দুর্যোগ নেই, তবু ৮০% বাল্যবিয়ে ও যৌতুক-চিন্তার বিষয় জেলা প্রশাসক রফিকুল হক রাণীশংকৈলে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী আবু জাফর মন্ডল, মসজিদে দিলেন থাই দরজা আশাশুনির বিভিন্ন দুর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম

আঠারো মাইল – খুলনা মহাসড়কের বেহাল অবস্থা ; ভোগান্তিতে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ

মো: আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধিঃ / ৭৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
আঠারো মাইল - খুলনা মহাসড়কের বেহাল অবস্থা ; ভোগান্তিতে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ
আঠারো মাইল - খুলনা মহাসড়কের বেহাল অবস্থা

সাতক্ষীরা- আঠারো মাইল – খুলনা মহাসড়ক, এটি দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক। এই মহাসড়কের সাথে সংযোগ রয়েছে আশেপাশের কয়েকটি জেলা । খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা সহ আশেপাশের অসংখ্য উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ মহাসড়ক। এ কারণে মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস এবং মালামাল বহনকারী শত শত ভারী যানবাহন। সংস্কারের অভাবে মহাসড়ক টি পরিণত হয়েছে সাধারণ জরাজীর্ণ সড়কে। পুরো সড়ক জুড়েই সৃষ্টি হয়েছে উঁচু নীচু খাদ আর গর্ত। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাইকগাছা কয়রা সহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ। সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইতোমধ্যে ইট-বালু দিয়ে দায়সারা মেরামত করলেও দুর্ভোগ কমেনি বরং জরাজীর্ণ সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে বলে যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ। অন্যদিকে দায়সারা মেরামতে স্থায়িত্ব কম এবং এতে সরকারি অর্থ অপচয় বেশি হয়, এক্ষেত্রে দ্রুত টেকসই সংস্কার করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন নিসচা সংগঠন।
খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা সহ সাতক্ষীরার তালা উপজেলা এমন কি সুন্দরবন সংলগ্ন আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম কয়রা,পাইকগাছা, তালা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং সাতক্ষীরা আঠারো মাইল খুলনা মহাসড়ক। একসময় আঠারো মাইল থেকে খুলনা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার মহাসড়ক চলাচলের উপযোগী ছিল, তখন অনুপযোগী ছিল কয়রা থেকে আঠারো মাইল পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। কয়রা থেকে আঠারো মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্ত এবং বাক সরলীকরণ করায় চলাচলের উপযোগী হলেও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ খুলনা মহাসড়কটি। আঠারো মাইল থেকে খুলনার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়েই উঁচু নীচু আর গর্তে ভরা। বিশেষ করে আঠারো মাইল থেকে চুকনগর আরসিসি রাস্তা পর্যন্ত এবং আরসিসি রাস্তা শেষ প্রান্ত থেকে ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ব্রিজ, ব্রিজের পর হতে ডুমুরিয়া, ডুমুরিয়া থেকে খুলনা পাওয়ার গ্রীড পর্যন্ত, খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দুই পাশে, রেল ক্রসিং এর দুই পাশে সহ জিরো পয়েন্ট আরসিসি রাস্তা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার মহাসড়ক জরাজীর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রথম দফায় ইট-বালু দায়সারা মেরামত করে চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের মেরামত ব্যাস্ততম এ মহাসড়কের জন্য খুব বেশি কাজে আসেনি বরং কার্পেটিং এর রাস্তা অনেকটাই ইটের রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বর্তমানে বিটুমিন ও পাথরের খোয়া দিয়ে কোথাও কোথাও সংস্কার করছেন এমনটাই দেখা গেছে। কিন্তু এ ধরনের সাময়িক সংস্কারে স্থায়ী কোন সুফল আসবে বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের মানুষ। মহাসড়কের এমন অবস্থা দেখে বোঝার উপায় এটি কোন মহাসড়ক নাকি সাধারণ কোন সড়ক। ফলে যাতায়াতে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
বাসচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন আঠারো মাইল থেকে খুলনা পর্যন্ত মহাসড়কের জরাজীর্ণতার কারণে যাত্রীরা এখন বাসে চলতে চাই না। তারা ছোট বাহনে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে এ কারণে আমাদের আয় অনেক কমে গেছে। প্রাইভেট চালক ওবায়দুল্লাহ জানান মহাসড়কের বেশিরভাগই জরাজীর্ণ, এ কারণে চলাচল করতে আমাদের অনেক ভোগান্তি হয়। পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক রেজাউল ইসলাম বলেন এই রোডে আমাদের প্রতিদিন রোগী বহন করতে হয়। কিন্তু মহাসড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে রোগীরা অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। খুলনা জেলা বাস মালিক সমিতির সহ সভাপতি অমরেশ কুমার মন্ডল বলেন কয়রা থেকে খুলনার দুরত্ব ৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে আঠারো মাইল থেকে খুলনা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ক্ষুদ্র মেরামত করলে ও সড়কে যানবাহনের অনেক বেশি চাপ থাকার কারণে মেরামত কোন কাজে আসছে না। উঁচু নীচু আর গর্তের কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা পাইকগাছা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বলেন খুলনা মহাসড়ক হচ্ছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাস্ততম সড়ক। এর সাথে ভারত এবং মোংলা বন্দর সহ আশেপাশের বহু সড়কের সংযোগ। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক যেনতেন দায়সারা মেরামত কখনো কাম্য হতে পারে না। এতে সরকারের অর্থ অপচয় ছাড়া তেমন কোন সুফল পাওয়া যায় না। মহাসড়কের শৃঙ্খলা ও যাতায়াত নিরাপদ করতে টেকসই স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন। দুর্ঘটনা রোধে তিনি দ্রুত মহাসড়ক টি টেকসই সংস্কারের দাবি জানান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার সড়ক উপ বিভাগ -০১ এর উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম আসাদুজ্জামান

বলেন খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত আরসিসি করণ প্রকল্পের ৪ টি টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। টেন্ডারের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও করা হয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে পারে বলে আশা করছি। উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হলে মহাসড়কের বেশিরভাগ জরাজীর্ণতা আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট মহাসড়কের দায়িত্বশীল এ কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd