ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবাগত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজাহান কবির বকুলের বিরুদ্ধে এমপিও কাগজ জালিয়াতি করে অসদুপায় অবলম্বন করে টাইম স্কেল গ্রহণ এবং একক ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) শাহজাহান কবীর ১৯৯৫ সালে হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকুরীতে প্রথম যোগদান করেন এবং ১৯৯৭ সালে এমপিওভুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ১ জুন থেকে তিনি বিএড স্কেল গ্রহণ করেন। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিএড স্কেল প্রাপ্তির ৮ বছর পর টাইম স্কেল পাওয়ার বিধান থাকলেও, তিনি প্রথম এমপিও শিটে ঘষামাজা করে বিএড স্কেল কোড বসান। ফলে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০০৫ সাল থেকেই টাইম স্কেল ও পরবর্তীতে উচ্চতর স্কেল সুবিধা গ্রহণ করে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ঠ্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবিএম মহিউদ্দীন প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, জালিয়াতির অভিযোগের মাঝেই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের কোনো বৈধ রেজুলেশন ছাড়াই একক ক্ষমতার বলে শাহজাহান কবির বকুলকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সিদ্ধান্তে অন্তত ৩ জন সদস্যের সম্মতি আবশ্যক। তবে ৪ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটির দুজন সদস্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা এই নিয়োগের বিষয়ে অবগত নন এবং রেজুলেশন খাতায় কোনো স্বাক্ষরও করেননি।
কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামত ছাড়াই কীভাবে এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগ সম্ভব হলোতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজ। জালিয়াতির মাধ্যমে গৃহীত অতিরিক্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এপ্রসেঙ্গে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক শাহাজান কবিরের মুঠোফোনে বুধবার সাড়ে তিনটায় একাধিকবার যোগাযোগ করারর চেষ্ঠা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি এবং কি বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শিরিন বানু মুঠো ফোনে জানান, শাহাজান কবিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতির কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার এ প্রতিনিধিকে বলেন,অভিযোগটি আমি পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।