ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এক অজ্ঞাত নবজাতকের মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে পৌর শহরের কুলিক নদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রীজের পাশ থেকে ওই নবজাতকটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্রীজের পাশে নবজাতকের নিথর দেহটি একটি কুকুর টেনে নিয়ে ছিঁড়ে খাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় নদীতে বর্শি দিয়ে মাছ শিকার করতে আসা কুলিকপাড়ার বাসিন্দা হালিমা বেগম নামের এক নারীর নজরে আসে বিষয়টি। তিনি দ্রুত হাতের বর্শি দিয়ে কুকুরটিকে তাড়িয়ে দেন এবং তার ছেলে রবিউল ইসলামকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মা যদি না দেখতো, এতক্ষণে নবজাতকের মরদেহটি ককুর ছিঁড়ে খেয়ে ফেলতো। আজকের সমাজে মানুষের এত অধঃপতন হয়ে গেছে, তা কল্পনাকেও হার মানাবে। যারা এমন অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের বা ভোরের কোনো এক সময় কে বা কারা লোকচক্ষুর আড়ালে সদ্যজাত এই নবজাতককে এখানে ফেলে রেখে গেছে। লোকালয়ে এভাবে একটি নিষ্পাপ শিশুর মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নবজাতকের পরিচয় এবং কারা তাকে এভাবে ফেলে গেছে, তা শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।