উৎসবমুখর পরিবেশ, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪ ঘটিকায় ঐতিহাসিক গুজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জমজমাট ফাইনাল ফুটবল ম্যাচ। বহুল প্রতীক্ষিত এ খেলায় মুখোমুখি হয় আলাদিপুর ফুটবল একাদশ বনাম গাংনগর ফুটবল একাদশ।
খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। মাঠের চারপাশে থাকা দর্শকরাও প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন। কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য উভয় দল মরিয়া হয়ে খেলতে থাকলেও কেউ কাউকে সহজে ছাড় দেয়নি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় দুই দলই একটি করে গোল করে ১-১ গোলে সমতায় থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়।
টাইব্রেকারে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে আলাদিপুর ফুটবল একাদশ জয়লাভ করে। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আলাদিপুর দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে গাংনগর ফুটবল একাদশও পুরো ম্যাচে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
ফাইনাল ম্যাচে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ আবু জাফর মন্ডল, সভাপতি, প্রাণী চিকিৎসক শিবগঞ্জ ইউনিয়ন ও ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার পদপ্রার্থী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম সান্তু, স্বত্বাধিকারী, সান্তু ইন্টারন্যাশনাল ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী *শিবগঞ্জ ইউনিয়ন *
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মইনুল ইসলাম, ৭ নং ওয়ার্ড শিবগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।
অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক। ম্যাচের প্রতিটি আক্রমণ, গোল এবং টাইব্রেকারের মুহূর্তে দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
খেলা শেষে বিজয়ী আলাদিপুর ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম সান্তু ও অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব মোঃ আবু জাফর মন্ডল।
এ সময় উপস্থিত অতিথিরা বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানান এবং খেলায় অংশ নেওয়া উভয় দলের খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এমন ক্রীড়া আয়োজন হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে এবং ফুটবলের প্রতি তরুণদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
সবশেষে জমজমাট লড়াই, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল ম্যাচ।
৯০ মিনিটে সমতা, এরপর টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ—শেষ হাসি হাসল আলাদিপুর ফুটবল একাদশ। আর জমজমাট এই ফাইনাল হয়ে রইল স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় এক আয়োজন।