• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ডোমারে “ফারিয়া”র নবগঠিত কমিটির সংবর্ধনা উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা ডোমারে বামুনিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সাবেক ছাত্রনেতা মারুফ তানভীর চৌধুরীর সহায়তা প্রদান মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ও স্বর্ণগ্রাম ইউপি কার্যালয় উদ্বোধন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেবহাটায় ঢাকাস্থ দেবহাটা সমিতির আয়োজনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারনা উদ্বোধন আশ্বাসেই পার ৭ মাস-হোসেনগাঁওয়ে ভাঙা সেতুতে ঝুলছে লাল কাপড় বাড়ছে দূর্ঘটনার ঝুঁকি আদালতের রায়ের চেয়েও ক্ষমতা বড়- রাণীশংকৈলে জমি দখলের অভিযোগ ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছার চাঁদখালীর এসএমবি ব্রিকস এর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন পাইকগাছায় এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮, আহত ৪৯ ডোমারে শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে নিউ মিলন সংঘে সিদুঁর খেলা অনুষ্ঠিত ডোমারে সোনারায় ইউনিয়নে বিএনপি’র পক্ষে পূজামন্ডবে আর্থিক সহায়তা প্রদান

মোকামতলায় করতোয়া নদী দখল করে শিক্ষকের ভবন নির্মাণ

মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি / ২২৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

বগুড়া যাঁদের হাত ধরে গড়ে ওঠে একটি সভ্য সমাজ, যাঁরা শিক্ষার্থীদের শেখান নৈতিকতা ও নদী-প্রকৃতিকে ভালোবাসার পাঠ—সেই ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষকের বিরুদ্ধেই এবার উঠেছে নদী দখলের গুরুতর অভিযোগ। বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার মেদিনীপারা গ্রামের শিক্ষক আজিজুল হক করতোয়া নদীর বুক চিরে গড়ে তুলছেন তিন তলা পাকা কংক্রিটের ভবন। এ ঘটনায় স্থানীয় নদী- প্রেমী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার গুজিয়া বাজার ও বন্দরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহাসিক করতোয়া নদী। এই নদীর অস্তিত্ব সংকটের মধ্যেই মেদিনীপারা গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক আজিজুল হক গুজিয়া বাজার ঈদগাহ সংলগ্ন নদী অববাহিকা ও নদীর কিছু অংশ জমি দখল করে অবৈধভাবে তিন তলা বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। অভিযুক্ত আজিজুল হক বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল বিভাগের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

​নদীর জায়গা দখল করে এভাবে বিশাল পাকা স্থাপনা গড়ে তোলার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে তৈরি হয়েছে প্রচণ্ড ক্ষোভ। তবে স্থানীয়দের এই আপত্তিতে একটুও দমে যাননি অভিযুক্ত এই শিক্ষক। নদী দখলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষক আজিজুল হক দম্ভোক্তি করে বলেন, “নদীর জায়গা দখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি ঠিকই, তবে এটি স্থানীয় গণমাধ্যম কিংবা স্থানীয় কোনো ব্যক্তির দেখার বিষয় নয়। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।” তাঁর এমন দাম্ভিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে স্থানীয় সচেতন মহল আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম গণমাধ্যমকে জানান, নদী দখল করে শিক্ষক আজিজুল হক পাকা ভবন নির্মাণ করছেন—এই বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অবগত। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ বিষয়ে সরাসরি উচ্ছেদ করার আইনি এখতিয়ার তাঁর না থাকায় তিনি কিছুটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “নদী দখল করে অবৈধ ভবন নির্মাণকারী আজিজুল হকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​এদিকে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, “নদী দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সরকারি সম্পদ ও নদী রক্ষায় আমরা অত্যন্ত কঠোর। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে খুব দ্রুতই আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​করতোয়া নদীকে বাঁচানো এবং এর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে এই অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার জন্য জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের দাবি, একজন শিক্ষক হয়েও যিনি আইন অমান্য করে নদী গ্রাস করছেন, তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে এই বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd