খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শুরু করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব কে ঘিরে বর্তমানে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীরা। এ বছর দেড়শ’র ও বেশি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে অত্র উপজেলায়। শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হলেও উৎসবের সাথে নানা ভাবে সম্পৃক্ত থাকে এখানকার সব ধর্ম এবং সকল শ্রেণির মানুষ। এ কারণে প্রতি বছর এখানে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে উদযাপিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে থেকে শুরু হতে পারে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। অন্যান্য পূজার চেয়ে দুর্গাপূজার জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়, কারণ প্রতিমা তৈরির জন্য বেশ অনেক দিন সময় লেগে যায়। এজন্য মূল পূজার এখনো অনেক দেরি থাকলে ও প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীরা। প্রতিটা মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। খড়, কাঠ, বাঁশ আর কাদা-মাটি দিয়ে তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ।
প্রতিমা তৈরির প্রধান ধাপগুলো হলো; মাটির কাজ শুরুর আগে বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো বা অবয়ব তৈরি করা। কাঠামোর ওপর নিখুঁতভাবে কাদা-মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটির কাজ শুকিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় ফিনিশিং ও রঙের কাজ। শিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের মূর্তিকে ফুটিয়ে তোলেন। প্রতিমা মণ্ডপে স্থাপনের আগে কাপড়, গয়না এবং বিভিন্ন সাঁজে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয় দেবী প্রতিমা কে।
পূজামণ্ডপ গুলোতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর শিল্পীরা। বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। গত বছরের চেয়ে এ বছর পূজা মণ্ডপ কয়েকটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন পূজা উদযাপন পরিষদ।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব হিমাদ্রি শেখর দে বলেন, এখনো চুড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি, তবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছি। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রাণ কৃষ্ণ দাশ বলেন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি হিসেবে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এবছর ১৫৪ বা তার ও বেশি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে পূজা উদযাপন পরিষদের এ নেতা জানান।