সময়ের সাথে সাথে দেশের সকল ক্ষেত্রে যখন আমুল পরিবর্তন এসেছে। এগিয়ে যাচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি। উন্নত প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সেখানে বিগত ৫০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি খুলনার পাইকগাছার লস্কর কড়ুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। দীর্ঘদিনের পুরাতন ভবন গুলো যেখানে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা দরকার, সেখানে জরাজীর্ণ ভবন জোড়াতালি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাপ্তরিক এবং পাঠদান সহ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন দূর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তেমনি শিক্ষার অনূকূল পরিবেশ না থাকায় লেখাপড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা। মাধ্যমিক পর্যায়ের দীর্ঘদিনের পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল অবস্থা হতাশ করেছে সবাই কে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার অনূকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নতুন ভবন নির্মাণের কোন বিকল্প নাই এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
১৯৭২ সালে উপজেলার লস্কর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে প্রতিষ্ঠিত হয় অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানটি অর্ধশত বছরের ও বেশি সময় ধরে এলাকায় মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসলেও অবকাঠামোগত দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটির কোন উন্নয়ন হয়নি। জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন জোড়াতালি দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম। সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসতে হয় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের।

জরাজীর্ণতার ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের পুরাতন মূল ভবন। ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে রড ও ইট বেরিয়ে এসেছে। ছাদের পুরোনো কাঠামো নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। বর্ষার দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। শিক্ষার্থী সাবেরা খাতুন বলেন দূর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসতে হয়। বর্ষার সময় পড়াশোনা ব্যহত হয়।
জরাজীর্ণ ভবন এবং শিক্ষার অনূকূল পরিবেশ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
মোঃ হযরত আলী বলেন একটি ক্লাব ঘরের অবস্থা এতটাই বেহাল না বিদ্যালয়টি যতটা বেহাল। তিনি বলেন শিক্ষার অনূকূল পরিবেশের জন্য একটি নতুন বহুতল ভবন জরুরি। পুরাতন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দুর্দশা দেখে খুব খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয় প্রতিষ্ঠানটি দেখার কেউ কি নাই!
এমন দুঃখ আর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসতে হয় বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন জরাজীর্ণ ভবনে দুই’শ শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন
ভবনটি এতটাই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় কখন কি দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষক কর্মরত রয়েছে। ৭ টি পদ শুন্য রয়েছে। তবে শিক্ষক সংকটের জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছি। শুধু চুনকাম বা জোড়াতালি দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। একটি আধুনিক মানের বহুতল নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।