আশাশুনিতে জমি ও মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের জেরে মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন বড়দল বাজার এলাকার মৃত লতিফ শেখের ছেলে রেজাউল শেখ।
এজাহার সূত্রে ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী জানা গেছে, আশাশুনি থানাধীন বড়দল মৌজায় ৩০ বিঘা জমিতে একটি যৌথ মাছের ঘের করতেন এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামির সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ায় বাদী ঘেরের অংশীদারত্ব থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় এক নম্বর আসামির অংশ এক লক্ষ ছাব্বিশ হাজার টাকার বিনিময় কিনে নিয়ে তিনি এককভাবে ঘেরটি পরিচালনা করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। এক নম্বর আসামির ছেলে তাঁর বাবার ঘেরের অংশ রক্ষা করতে না পারায় বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি দেন। সুযোগ পেলে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছের ক্ষতি করবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৭ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে এক নম্বর আসামি ও তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাদীর মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এ সময় ঘেরে থাকা বাগদা, গলদা, হরিণাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ মরে যায়। এতে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। বাদীর দাবি, ঘটনার সময় সাক্ষী মো. সাব্বির হোসেন (২৮) বিষয়টি সরাসরি দেখেছেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই ঘেরে আবারও বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনাও কয়েকজন সাক্ষী সরাসরি দেখেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়টি জানার পর বাদী সাক্ষীদের নিয়ে ঘের পরিদর্শন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখে তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদুর রহমান জানান ঘেরে বিষ প্রয়োগের ব্যাপারে একটা লিখিত এজাহার পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।