বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার মোকামতলা বন্দরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় সামাজিক বনায়নের গাছ চুরি করে কাটার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য ও মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোছা. ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় গাছের গুঁড়িসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। বন বিভাগের দাবি, গাছ কাটার ঘটনায় সরকারি সম্পদের ১০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—মোকামতলার খামারপাড়া গ্রামের মো. লিয়াকত আলী মঞ্জু (৫৬), কাশিপুর গ্রামের মোছা. ফাহিমা বেগম (৪৮), খামারপাড়া গ্রামের জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা মো. কহিনুর ইসলাম (৬৫), মো. আবুল কালাম আজাদ (৪০), মো. আবু জাফর প্রাং (৬০), মো. রাজু মিয়া (৪০) এবং মালাহার গ্রামের মো. এনামুল হক (৪০)।
রাতের আঁধারে গাছ কাটার অভিযোগ
বন বিভাগের নথি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোকামতলা বন্দরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মো. আমজাদ হোসেন প্রফেসরের করাতকলের পাশে সরকারি সামাজিক বনায়ন এলাকায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে সামাজিক বনায়ন এলাকায় প্রবেশ করে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় গাছের গুঁড়িসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ করা ট্রাকটির নম্বর যশোর-ট-১১-৫১৭০।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, সরকারি সামাজিক বনায়ন এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে গাছ কাটার অভিযোগে ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ৩৩(১)(গ) ও (ছ) ধারা এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতির দাবি বন বিভাগের
মোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
‘অযথাই মামলা করা হয়েছে’—ফাহিমা
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো বক্তব্য নেই। আমার নামে অযথাই মামলা করা হয়েছে। অপরাধ করে থাকলে মামলায় যা হওয়ার হবে।”
নজরদারি বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয়রা জানান, সামাজিক বনায়নের গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি জায়গায় লাগানো এসব গাছ অবৈধভাবে কাটা হলে একদিকে যেমন সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তাদের অভিযোগ, সামাজিক বনায়ন এলাকার নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বন বিভাগের মামলার পর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।