• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ও স্বর্ণগ্রাম ইউপি কার্যালয় উদ্বোধন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেবহাটায় ঢাকাস্থ দেবহাটা সমিতির আয়োজনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারনা উদ্বোধন আশ্বাসেই পার ৭ মাস-হোসেনগাঁওয়ে ভাঙা সেতুতে ঝুলছে লাল কাপড় বাড়ছে দূর্ঘটনার ঝুঁকি আদালতের রায়ের চেয়েও ক্ষমতা বড়- রাণীশংকৈলে জমি দখলের অভিযোগ ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছার চাঁদখালীর এসএমবি ব্রিকস এর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন পাইকগাছায় এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮, আহত ৪৯ ডোমারে শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে নিউ মিলন সংঘে সিদুঁর খেলা অনুষ্ঠিত ডোমারে সোনারায় ইউনিয়নে বিএনপি’র পক্ষে পূজামন্ডবে আর্থিক সহায়তা প্রদান ডোমারে বামুনিয়া ইউনিয়নের ১০টি দুর্গাপূজা মন্ডবে আর্থিক অনুদান প্রদান ডোমারে হরিণচড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারপিটের ঘটনায় আহত ২

পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড় ; ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান

মো: আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধিঃ / ৯৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড় ; ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান
ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়

শ্রেণিকক্ষ ঘেঁষেই ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বেশির ভাগ সময়েই মাস্ক পরে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। ময়লার স্তূপটি কয়েকবার অপসারণ করা হলেও সেখানে আবারও ফেলা হয় ময়লা। বিষয়টি নিয়ে অনেকটা অসহায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল এন্ড কলেজ ও পার্শ্ববর্তী কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়টির শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। সহচরী বিদ্যামন্দিরের পূর্ব পাশের একাডেমিক ভবনের গা ঘেঁষে জনৈক ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে ময়লার ভাগাড়। ভাগাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এ ছাড়া স্কুলঘেঁষা ড্রেনের ময়লা ও পানি থেকে আসা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশে। সৃষ্টি হয়েছে মশা প্রজননের অভয়ারণ্য।বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তের শঙ্কা। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি নিরুপায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম এমনটি জানালেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিষয়টি প্রশাসনে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। এরপরও ময়লার স্তূপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা যায়নি। ময়লার কারণে বিদ্যালয়ে মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে। পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে ওই জায়গা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এসব আবর্জনা আবার আশপাশের অনেকটা জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমতে থাকায় বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিভাবকরা জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় খেলাধুলা করে থাকে, ময়লা-আবর্জনার কারণে তা করতে পারে না। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শতবর্ষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যামন্দিরের পাশে অবস্থিত শহীদ মিনার এবং একাডেমিক ভবনের পেছনে জনৈক শেখ আলী আম্বিয়া আলীর বহুতল ভবনের পেছনের খালি জায়গাটিতে তৈরি হয়েছে ভাগাড়। এই ভবনের নিচতলাতেই ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। আর এই ময়লার ভাগাড় বর্তমান পরিষদ কার্যালয়ের পেছনে। যে পথে চলাচল করে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। এ যেন আলোর নিচে অন্ধকার। স্থানীয় সরকারের খোদ ইউনিয়ন পরিষদের সাথেই গড়ে উঠেছে ভাগাড় আর সেখানকার দুর্গন্ধে গত ৬ মাস ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষি বিদ্যাপীঠের একটি দ্বিতল ভবনের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পরেও টনক নড়েনি যুবলীগ নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মোড়লের। উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে একাধিকবার জানালেও কোন সমাধান মিলেনি এমন অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এমনকি বিভিন্ন সময় তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে পরিষদের সচিবকে জানানোর পরামর্শ দেন। স্থানীয়রা বলছেন, আশপাশের বাসাবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী দোকানের ময়লা ফেলায় ওই জায়গা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এসব ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণ করে ভোগান্তি থেকে রেহাই দেওয়া হোক।কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে অতিসত্বর ময়লার স্তূপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা দরকার।এলাকার বাসিন্দা সুজন বলেন, ‘স্কুলের এই সাইড দিয়ে যাওয়া-আসা করলে নাক মুখ চেপে ধরতে হয়। স্কুলের বাচ্চাগুলান কেমনে এই গন্ধে ক্লাস করে,ভগবানই জানে! সহচরী বিদ্যামন্দিরের সপ্তম শ্রেণীর একাধিক ছাত্র জানান, কয়েক মাস আগে তাদের ক্লাস হতো ওই ভবনে কিন্তু মারাত্মক দুর্গন্ধ এবং মশার উপদ্রব থাকায় সরিয়ে অন্য ভবনে আনা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল বলেন, বেশ কিছুদিন পূর্বে কে বা কারা পূর্ব পাশের একাডেমী ভবনটির পিছনের একাধিক জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, পার্শ্ববর্তী ভবনের পাইপ ফেঁটে নোংরা পানি পড়ছে বিদ্যালয়ের দেয়াল। অভিযোগ করে কোন কাজ হয়নি। আমরা লোকজন দিয়ে একাধিকবার ময়লা–আবর্জনার স্তূপ অপসারণ করেছি। কিছু দিনের মধ্যে পুনরায় আগের মতো অবস্থা হয়ে যায়। কোনোভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে অতিসত্বর ময়লার স্তূপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা দরকার।’ এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চান তিনি। বিদ্যালয়ের নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ জানান, প্রথম দিনেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এবং ছাত্রদের সাথে কথা বলে সরেজমিনে দেখতে সেখানে যায়। পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে মোবাইলে কথা বলি। তৎক্ষণাৎ ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। উল্লেখ্য ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল এন্ড কলেজে এর বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৮০৩ জন এবং কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমান ৮০৩ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫৩৫ জন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd