• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
পঞ্চগড়ে শহীদ আবু সাইদ স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার ও পাইপ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস, কঠোর বার্তা ইউএনওর ১৪ শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জনে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি ও মিষ্টিমুখ উৎসব বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৪৮ পিস ই’য়া’বা’সহ মা’দ’ক কা’রবারি গ্রে’ফতা’র সাতক্ষীরার দেবহাটায় গলায় ফাঁস দেয়া গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, ইউডি মামলা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তি পেল ‘বাদশা বাহাদুর’ — বগুড়া থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানার পথে অসুস্থ হাতি রাণীশংকৈল ​৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯৪ রোগী- মেঝে-বারান্দায় শয্যা সেবা দিতে ক্লান্ত চিকিৎসক-নার্স প্রচণ্ড গরমে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদল, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ দেবহাটায় ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের অভিযোগে মামলা, অভিযুক্ত আটক আশাশুনিতে ইজারা প্রাপ্ত একসরা খাল জলমহাল লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোকামতলায় করতোয়া নদী দখল করে শিক্ষকের ভবন নির্মাণ

মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি / ১০৬ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

বগুড়া যাঁদের হাত ধরে গড়ে ওঠে একটি সভ্য সমাজ, যাঁরা শিক্ষার্থীদের শেখান নৈতিকতা ও নদী-প্রকৃতিকে ভালোবাসার পাঠ—সেই ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষকের বিরুদ্ধেই এবার উঠেছে নদী দখলের গুরুতর অভিযোগ। বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার মেদিনীপারা গ্রামের শিক্ষক আজিজুল হক করতোয়া নদীর বুক চিরে গড়ে তুলছেন তিন তলা পাকা কংক্রিটের ভবন। এ ঘটনায় স্থানীয় নদী- প্রেমী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার গুজিয়া বাজার ও বন্দরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহাসিক করতোয়া নদী। এই নদীর অস্তিত্ব সংকটের মধ্যেই মেদিনীপারা গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক আজিজুল হক গুজিয়া বাজার ঈদগাহ সংলগ্ন নদী অববাহিকা ও নদীর কিছু অংশ জমি দখল করে অবৈধভাবে তিন তলা বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। অভিযুক্ত আজিজুল হক বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল বিভাগের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

​নদীর জায়গা দখল করে এভাবে বিশাল পাকা স্থাপনা গড়ে তোলার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে তৈরি হয়েছে প্রচণ্ড ক্ষোভ। তবে স্থানীয়দের এই আপত্তিতে একটুও দমে যাননি অভিযুক্ত এই শিক্ষক। নদী দখলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষক আজিজুল হক দম্ভোক্তি করে বলেন, “নদীর জায়গা দখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি ঠিকই, তবে এটি স্থানীয় গণমাধ্যম কিংবা স্থানীয় কোনো ব্যক্তির দেখার বিষয় নয়। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।” তাঁর এমন দাম্ভিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে স্থানীয় সচেতন মহল আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম গণমাধ্যমকে জানান, নদী দখল করে শিক্ষক আজিজুল হক পাকা ভবন নির্মাণ করছেন—এই বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অবগত। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ বিষয়ে সরাসরি উচ্ছেদ করার আইনি এখতিয়ার তাঁর না থাকায় তিনি কিছুটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “নদী দখল করে অবৈধ ভবন নির্মাণকারী আজিজুল হকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​এদিকে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, “নদী দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সরকারি সম্পদ ও নদী রক্ষায় আমরা অত্যন্ত কঠোর। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে খুব দ্রুতই আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​করতোয়া নদীকে বাঁচানো এবং এর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে এই অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার জন্য জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের দাবি, একজন শিক্ষক হয়েও যিনি আইন অমান্য করে নদী গ্রাস করছেন, তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে এই বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd