
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। গণশুনানির স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিলে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণশুনানির সমান্তরালে রহবল বাজার এলাকায় ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
জানা গেছে, ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন বিষয়ে জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। তবে ইউনিয়নের একটি বড় অংশের বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত স্থানটি সবার জন্য সমানভাবে সুবিধাজনক নয়। ফলে অনেকেই তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ অবস্থায় রহবল বাজার এলাকায় স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিকরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা দাবি করেন, ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য রহবল বাজারেও পৃথক গণশুনানির আয়োজনের জোর দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে তা শান্তিপূর্ণ থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মোকামতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকন-উদ-দৌলা রুবেল। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি ও উদ্বেগের বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন।
এ সময় রুবেল আশ্বাস দিয়ে বলেন, “স্থানীয় জনগণের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রহবল বাজার এলাকার মানুষের মতামত গ্রহণের জন্য পৃথক গণশুনানির ব্যবস্থা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।”
তার এ আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করে শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন। এতে সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক বা অসন্তোষ না থাকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউনিয়নের পরিচয় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। ফলে রহবল বাজারে পৃথক গণশুনানির দাবি বাস্তবায়িত হলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে তারা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম এ আছাদ
বিজয়ের আলো